নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রাতরাশ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে আস্থা, নীতির পূর্বানুমেয়তা এবং স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন আর্থিক রেফারেন্স তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা কেবল নীতিগত ঘোষণায় নয়, বরং তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের পরিবর্তে পারস্পরিক মূল্য সৃষ্টি করে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

মন্তব্য করুন