চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর গুয়াংজুতে বাংলাদেশের কনস্যুলেট অফিস স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন গুয়াংজু ও আশপাশের অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে গুয়াংজু ফ্রেন্ডশিপ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এবং রাঁধুনি রেস্টুরেন্টের মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেন কানন। শনিবার, ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, গুয়াংজু ও আশপাশের শেনঝেন, ডংগুয়ান, ফোশান ও ঝোংশান শহরে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। এ ছাড়া প্রতি মাসে ব্যবসা, পর্যটন ও চিকিৎসার প্রয়োজনে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি ওই অঞ্চলে যাতায়াত করেন। অথচ কনস্যুলেট সেবা নিতে তাঁদের বেইজিংয়ে প্রায় ২ হাজার ১২৬ কিলোমিটার অথবা কুনমিংয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি বাড়ছে।
আবেদনকারীরা জানান, গুয়াংজু চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিবছর এখানে দুবার অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ক্যান্টন ফেয়ার। ২০২৬ সালের শরৎকালীন ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ার শুরু হয়েছে ১৫ অক্টোবর। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মতে, গুয়াংজুতে কনস্যুলেট অফিস চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের কূটনৈতিক সেবা পাওয়া সহজ হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রশাসনিক সহায়তা পেতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রবাসীদের। বর্তমানে স্থানীয় বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তা এবং জরুরি কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করতেও গুয়াংজুতে অফিস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনটির অনুলিপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির কাছেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারীদের আশা, গুয়াংজুতে কনস্যুলেট অফিস স্থাপিত হলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি চীনের দক্ষিণাঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

মন্তব্য করুন