রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, তাঁর থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় তাঁর থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগে বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। এ সময় মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন।
পরে দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন