নতুন উদ্দীপনা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসারের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে এসব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তবে এ মুহূর্তে নতুন করে কোনো যৌথ অভিযান পরিচালনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

আনসার সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তাদের বিভিন্ন দাবি ও সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও চেষ্টা থাকবে।

নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। সেই লক্ষ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে তেজগাঁওয়ে প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এতে বাহিনীর দীর্ঘদিনের স্থানসংকট অনেকটাই নিরসন হবে।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের অন্যতম বৃহৎ জনবলভিত্তিক বাহিনী।

বিভিন্ন জাতীয় সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাহিনীর আর্থিক ও অন্যান্য দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণের সরকারি উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

ডিসেম্বর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে কোনো অপশক্তি দেশে নাশকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

রাজধানীর যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যে উন্নতি হয়েছে, তা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।