সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে ‘হল অব প্রাইড’-এ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউনিটটির কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রচলিত পদ্ধতিতে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

নতুন ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এর কার্যক্রম তদারক করবেন।

থানা পর্যায়েও সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ইউনিটটির মোট জনবল ৪ হাজার ৫৯২ জন। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনীর অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই জনবল পূরণ করা হবে।

ইউনিটটিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক এবং দুর্যোগ-পরবর্তী তথ্য পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া পুলিশ বাহিনীর তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিটটিতে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাজের অবদানের ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও থাকবে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে এই ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা ছিল, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে তা দূর করা হবে। এখন থেকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর অধীনে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষায়িত এই ইউনিটের মাধ্যমে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ আরও কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ও দমন করা সম্ভব হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।