বড় স্বপ্ন নিয়ে এশিয়ান গেমসে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। লক্ষ্য ছিল সোনা জয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ম্যাচ না জিতেই পদকহীনভাবে ফিরতে হয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দলকে।

বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল না খেলেই সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই অন্তত একটি পদক নিশ্চিত হতো। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। এরপর ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে হেরে যায় বাংলাদেশ। ব্যর্থতার পর কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, কোচিং স্টাফ হিসেবে তারাও ব্যর্থ হয়েছেন এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

দলের ব্যর্থতায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে। তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান ও লিটন দাস—কেউই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। ফলে প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

দল নির্বাচন নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক উইকেটে আলিস আল ইসলামকে একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিপরীতে বাড়তি পেসার খেলানোর সিদ্ধান্তও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দলের শৃঙ্খলার বিষয়টি। ম্যাচের আগের দিন তাওহীদ হৃদয়, সাইফ হাসান ও রিশাদ হোসেন এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিবির মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাদের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়ার কথাও জানা গেছে।

বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোনা জয়ের লক্ষ্যেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এশিয়ান গেমসে পাঠানো হয়েছিল এবং দলটিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই শক্তিশালী মনে করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাটারদের ব্যর্থতা ও কিছু সিদ্ধান্তের কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

এখন প্রশ্ন উঠছে, শুধু ক্রিকেটারদের ব্যর্থতা, নাকি দল নির্বাচন, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার ঘাটতিও এই হতাশাজনক ফলের পেছনে দায়ী? এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে বাংলাদেশ ক্রিকেট কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।