মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে চলমান সংকট মোকাবিলায় নেওয়া উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে এলপিজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানো, নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকারি অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখার নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

বর্তমানে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও দ্রুত কমছে। এ অবস্থায় নিজস্ব কয়লা উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয়দের সম্মতি পাওয়া গেলে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বড়পুকুরিয়ায় নতুন করে ৩০০ একর এলাকায় উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জেও কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুলবাড়ীতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের আয়-রোজগার, বসতি ও পরিবেশের বিষয় বিবেচনার কথা জানিয়েছে সরকার।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রে এখন পর্যন্ত ১০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ও তথ্য প্যাকেজ কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে এবং সেগুলো থেকে দৈনিক ২৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমাধান হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও হাটবাজারে রুফটপ সোলার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বড় শিল্পকারখানায় সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রাহকদের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চার দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আটটি এলএনজি আমদানি চুক্তি থাকলেও এ বছর নির্ধারিত ১০৩টি কার্গোর মধ্যে প্রথম নয় মাসে এসেছে মাত্র ২১টি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস, কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।