সংকটময় পরিস্থিতিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন দেশের চিকিৎসকেরা। তাঁদের মেধা, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও মানবসেবায় আত্মনিবেদন জাতির জন্য গর্বের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞদের সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সপ্তম বার্ষিক সম্মেলন ‘হেমোটোকন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ হয়তো অনেকের কথা শুনতে চায় না, কিন্তু একজন চিকিৎসকের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শোনে। চিকিৎসকদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা রয়েছে। দেশের চিকিৎসকেরা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা মানুষের সেবায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেন, যার বিনিময়ে সব সময় কোনো প্রতিদানও প্রত্যাশা করেন না।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের চিকিৎসকদের নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন এবং বিদেশেও তাঁদের দক্ষতা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। চিকিৎসকদের এই আত্মত্যাগ ও মানবিক দায়িত্ববোধ দেশের জন্য বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানে দেশের হেমাটোলজি বা রক্তরোগ চিকিৎসা খাতের উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞদের পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, রাজধানীকেন্দ্রিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এতে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা নিজ নিজ এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে দেশজুড়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

চিকিৎসকদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জটিল রোগের চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।