মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি নিজের রাজনৈতিক চাপ থেকে জনমত সরাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বলির পাঠা বানাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মুচকি হেসে নীরব থেকেছেন জেলেনস্কি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প কি নিজের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতে জেলেনস্কির সমালোচনা করছেন? এ সময় ইরান পরিস্থিতি এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গও তোলা হয়।

প্রশ্ন শুনে জেলেনস্কি মুচকি হাসেন। পরে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘এটাই আমার উত্তর।’ তাঁর এমন প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করার তুলনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কাজ করাকে সহজ বলে মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জেলেনস্কি ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইউক্রেনে এক হাজার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। অথচ মার্কিন পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা কঠিন এবং পুতিনের সঙ্গে কাজ করা তুলনামূলক সহজ।

জেলেনস্কির বক্তব্যে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট আড়াল করার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা অবস্থায় ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।