https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো, সৎ ও মেধাবী মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা না গেলে উন্নয়নের যে স্বপ্নই দেখা হোক, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
শুক্রবার সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ভালো মানুষের নেতৃত্বে আসা জরুরি। গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে এবং মেধাবী তরুণদের একটি অংশ রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। এর ফলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে অনাস্থাও তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপকরণ থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি করা যায় না, তেমনি যোগ্য ও সৎ মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল ধরে রাখা সম্ভব নয়।
বরিশালের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে আন্দালিভ রহমান বলেন, ফুটবল, রাজনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত বরিশাল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বিশিষ্ট নেতার জন্ম এই অঞ্চলে।
তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী প্রজন্মের মধ্যে যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। বরিশালের পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকেও মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে এবং তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এই উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে যোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য।
বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের মেধাবী ও যোগ্য তরুণদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করতে হবে। তরুণদের জন্য রাজনীতির পরিবেশ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করা গেলে তারা দেশ পরিবর্তনের কাজে আরও আগ্রহী হবে।
তিনি বলেন, অনেক অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা সম্ভব হলেও ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ যদি চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা অন্য পেশার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে, সেটিই ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।