পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ পালনকারী মুসল্লিদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘদিনের অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থা সরিয়ে সেখানে ইতিকাফের জন্য স্থায়ী কক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর তাঁবু স্থাপন ও খুলে ফেলার প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি মুসল্লিদের ইবাদতের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এ সময় মুসল্লিরা মসজিদে অবস্থান করে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় সময় কাটান। মসজিদে নববীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির ইতিকাফের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা।
সেই লক্ষ্যেই মসজিদে নববীতে স্থায়ী ইতিকাফ কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের বরাতে জানা গেছে।
নতুন ব্যবস্থায় অস্থায়ী তাঁবুর পরিবর্তে স্থায়ী কাঠামো ব্যবহার করা হবে। এতে প্রতিবছর রমজানের আগে তাঁবু স্থাপন এবং পরে সেগুলো খুলে ফেলার ঝামেলা কমবে। একই সঙ্গে ইতিকাফের স্থান প্রস্তুত ও ব্যবস্থাপনার কাজ আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্মাণস্থল থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, মসজিদের একটি অংশ ঘিরে সাদা প্রতিবন্ধক স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলোতে মসজিদের লোগো, নির্মাণকাজ চলার বার্তা এবং সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নির্মাণ এলাকায় একটি টাওয়ার ক্রেন দেখা গেছে। ছাদের অংশে স্টিলের কাঠামোর মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ চলছে। কাছাকাছি একজন শ্রমিককে ঝালাইয়ের কাজ করতেও দেখা যায়। ছাদের নিচে খোদাই করা পাথরের সারির ফাঁক দিয়ে বৈদ্যুতিক তার টানার কাজও চলছে।
স্থায়ী কক্ষ নির্মাণের ফলে ইতিকাফের জন্য আরও পরিকল্পিত ও সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা এবং নতুন কক্ষ ব্যবহারের বিস্তারিত নিয়ম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
মসজিদে নববীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইতিকাফের ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়বে। এতে পবিত্র রমজানে মুসল্লিদের ইবাদত পালনের সুযোগ আরও সুশৃঙ্খল করার পথ তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন