‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামে নতুন একটি অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহাবি এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, নতুন অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের কাছে সম্পূর্ণ নতুন হবে। তবে এর ধরন, শক্তিমত্তা ও উন্মোচনের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বার্তা সংস্থা ওয়াইজেসিএনএকে বুধবার (২১ অক্টোবর) মোহাবি বলেন, ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে। তবে এটি প্রচলিত বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্য কোনো ধরনের অস্ত্র, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এ ঘোষণা সামনে এলো। এর আগে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামে একটি বিশাল অ-পারমাণবিক বোমা রয়েছে, যা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত। শক্তিশালী বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিস্তৃত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বড় বোমা ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে দেশটির গভীরে অবস্থিত ও শক্ত পাথরের স্তরে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে এ ধরনের বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষ করে পিকাক্স পর্বত এলাকায় অবস্থিত বলে ধারণা করা ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনা শক্ত ভূতাত্ত্বিক স্তরের নিচে সুরক্ষিত। ফলে বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও এসব স্থাপনা ধ্বংস করার নিশ্চয়তা নেই।
ইরানের নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা দুই দেশের উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে। তবে ইরানের ঘোষিত অস্ত্রটির প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নিয়ে ইরানের ঘোষণাকে আপাতত একটি সম্ভাব্য নতুন অস্ত্রের ঘোষণা হিসেবেই দেখা হচ্ছে; এর কার্যকারিতা ও সামরিক প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্যের ওপর।

মন্তব্য করুন