নদীর ওপর দিয়ে নয়, একেবারে তলদেশের নিচ দিয়ে ট্রেনে চড়ে নদী পার হওয়া! শুনতে অবাক লাগলেও চীনের সাংহাইয়ে রয়েছে এমনই এক ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। শহরটির বান্ড সাইটসিয়িং টানেলের মধ্য দিয়ে হুয়াংপু নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াত করা যায়। মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিটের এই যাত্রায় নদী পার হওয়ার পাশাপাশি উপভোগ করা যায় আলো, লেজার ও শব্দের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ প্রদর্শনী।

সম্প্রতি এক ভ্লগার ইনস্টাগ্রামে এই ট্রেনযাত্রার ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে ফুল দিয়ে সাজানো একটি দেয়াল পেরিয়ে টানেলের প্রবেশপথে পৌঁছান তিনি। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশের পর শুরু হয় তাঁর ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

টানেলের ভেতরে রয়েছে ঝলমলে এলইডি আলো, লেজার প্রক্ষেপণ এবং মহাকাশের আবহ তৈরি করা বিভিন্ন শব্দপ্রভাব। এসব আয়োজনের কারণে সাধারণ নদী পারাপারও পরিণত হয় বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতায়। ভ্লগার এই যাত্রাকে দারুণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, চীন সাধারণ একটি যাতায়াতব্যবস্থাকেও দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

সাংহাইয়ের বান্ড সাইটসিয়িং টানেলের দৈর্ঘ্য ৬৪৬ দশমিক ৭ মিটার। এটি হুয়াংপু নদীর তলদেশ দিয়ে ঐতিহাসিক বান্ড এলাকাকে পুডংয়ের লুজিয়াজুই আর্থিক জেলার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এখানে প্রচলিত মেট্রোরেলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যাত্রীবাহী কেবিন। যাত্রাপথে মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীর মাধ্যমে আলো ও শব্দের নানা প্রভাব উপভোগ করতে পারেন যাত্রীরা।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একমুখী যাত্রার টিকিটের দাম ৫০ চীনা ইউয়ান এবং যাওয়া-আসার টিকিট ৭০ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ আনুমানিক ৯২৬ ও ১ হাজার ২৯৯ টাকা।

এক মিটারের কম উচ্চতার শিশুরা বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারে। আর এক মিটারের বেশি থেকে ১ দশমিক ৩ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার শিশুদের জন্য অর্ধেক দামে টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে ভ্রমণের আগে টিকিটের বর্তমান মূল্য, সময়সূচি ও শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।