https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তায়ে-ওয়ানকে তার সাবেক স্ত্রী রো সো-ইয়ংকে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন (প্রায় ৬৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। আলোচিত এই মামলাকে স্থানীয় গণমাধ্যম ‘শতাব্দীর সেরা বিবাহবিচ্ছেদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সর্বশেষ রায়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হলেও মামলাটি এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের এক রায়ে চে তায়ে-ওয়ানকে ১ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন ওন পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ৯৪৪ বিলিয়ন ওন নির্ধারণ করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রো তায়ে-উর কন্যা রো সো-ইয়ংয়ের সঙ্গে চে তায়ে-ওয়ানের ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে এক দশক আগে। অন্য এক নারীর সঙ্গে চে তায়ে-ওয়ানের সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ক থেকে সন্তানের জন্মের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে ভাঙন ধরে।
রায়ের পর চে তায়ে-ওয়ানের আইনজীবীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিবাহবিচ্ছেদের মামলা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পর্যালোচনার পর তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এসকে গ্রুপ দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বৃহৎ পারিবারিক ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং স্যামসাংয়ের পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম কনগ্লোমারেট। গ্রুপটির অধীনস্থ এসকে হাইনিক্স বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে এবং নিউইয়র্ক শেয়ারবাজার থেকে ২৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
মামলার শুনানিতে রো সো-ইয়ংয়ের আইনজীবীরা দাবি করেন, চে তায়ে-ওয়ানের ব্যবসায়িক সাফল্যের পেছনে তার বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট রো তায়ে-উর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাদের দাবি, ১৯৯১ সালে রো তায়ে-উ তার বিশেষ তহবিল থেকে চে তায়ে-ওয়ানকে ৩০ বিলিয়ন ওন দিয়েছিলেন।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট পরে রায় দেয়, ওই তহবিল অবৈধভাবে অর্জিত হওয়ায় সেটিকে দম্পতির যৌথ সম্পদের অংশ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এরপরই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে আলোচিত এই মামলাটি দেশটির করপোরেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল বিবাহবিচ্ছেদ মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।