https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, পেনড্রাইভ ও সিমকার্ডসহ বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে এক দুবাইপ্রবাসীর বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইবার ও আর্থিক প্রতারণার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে তিনটি পাকিস্তানি ও একটি কম্বোডিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়েছে।
দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, চক্রটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে অনলাইন জুয়ার প্রস্তাব দিত এবং চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করত। লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় তারা বাংলাদেশকে নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জব্দ করা কম্পিউটার ও ল্যাপটপের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে চক্রটি কার কার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং কীভাবে অর্থ লেনদেন করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাদের পাসপোর্ট এক বাংলাদেশির কাছে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই ব্যক্তির সহযোগিতায় বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে বিদেশিদের দেশে প্রবেশ ও অবস্থানের বৈধতা যাচাইসহ চক্রটির মূল নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
সিএমপি জানিয়েছে, চক্রটির কার্যক্রম শুধু ওই বাড়িতে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে ই-লেনদেন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী রয়েছে বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সহযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২ ও ২৩ ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের মূল হোতা ও দেশীয় সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।