সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ফিরে এসেছে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। তবে বিমানগুলো ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার (২১ অক্টোবর) একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ইসরায়েলি বিমানগুলো ইরান সীমান্তের কাছে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যায়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই অবহিত করেছিল ইসরায়েল। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিমানগুলো সীমান্তের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি এ অভিযানকে সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেও বর্ণনা করেছে ইসরায়েল।
তবে ইসরায়েলের এই ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁদের ধারণা, ইসরায়েল আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে তাদের যুদ্ধবিমান পৌঁছালে ইরানি বাহিনী গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে। পরে সেই ঘটনাকে নতুন করে হামলা শুরুর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতো। কিন্তু ইরান কোনো গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না ট্রাম্প। ফলে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর সীমান্তের কাছে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন