ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটিকে ঘিরে শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এই বক্তব্যে ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছি না। কোনো একভাবে খুব শিগগিরই কিছু একটা হবে। বেশিরভাগ মানুষ মনে করছে, এটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হবে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ হামলার একটি খসড়া পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তৈরি করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হলে তা স্বল্পস্থায়ী হলেও অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। সম্ভাব্য হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এ ধরনের অভিযানের অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগের কথা জানাননি। একই সঙ্গে শিগগিরই কিছু ঘটার ইঙ্গিত দিলেও তিনি সরাসরি নতুন হামলার ঘোষণা দেননি।

এ পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ও পরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নজর রাখছেন বিশ্লেষকেরা।