জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতাদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন নিতে হবে। এসব ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন দেওয়া হবে বিনামূল্যে।
নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রেতাসহ বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে।
এ ছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও হিমাগার, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্যপণ্য আমদানিকারকদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।
শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের ব্যবসায় নিবন্ধনের পাশাপাশি লাইসেন্স নিতে হবে।
একই নিয়ম প্রযোজ্য স্বাস্থ্যসহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক ও নিউট্রাসিউটিক্যাল পণ্যের নির্ধারিত ব্যবসার ক্ষেত্রে। জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, অভিনব খাদ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের ব্যবসায়ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ফরম পূরণ করে আবেদন জমা দেওয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিএফএসএর সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। যেসব খাদ্যপণ্যের মোড়কে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হবে, সেসব পণ্যের প্যাকেট বা মোড়কে নম্বরটি প্রদর্শন করতে হবে।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নজরদারি জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন