ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে। শীতকালীন সময় চালু করতে শনিবার দিবাগত রাতে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে মানুষ এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। তবে সকালে তুলনামূলক আগে আলো ফুটবে এবং সন্ধ্যা দ্রুত নামবে।

২৪ থেকে ২৫ অক্টোবরের রাতে মধ্য ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন সময় অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটা রাত ৩টা থেকে ২টায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে মধ্য ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন সময় (সিইএসটি) এবং শুরু হবে মধ্য ইউরোপীয় সময় (সিইটি)।

যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও সময় পরিবর্তন করা হবে। তবে দেশ দুটির সময় ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বেশির ভাগ দেশের তুলনায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে ডে-লাইট সেভিং টাইম শেষ হবে আগামী ১ নভেম্বর। অন্যদিকে জাপান, থাইল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে মৌসুমি সময় পরিবর্তনের প্রচলন নেই।

ঘড়ির সময় পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়। ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের সময় ইউরোপের দেশগুলো এ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেয়। ফ্রান্স ১৯৭৬ সালে গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করে। পরে পশ্চিম জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশও এ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়।

তবে আধুনিক সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের কারণে ঘুমের অভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও প্রভাব পড়তে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালের এক জনমত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ এ ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে মত দেন।

২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টও বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন নাকি শীতকালীন সময় রাখা হবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলো একমত হতে পারেনি।

কোভিড-১৯ মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় পিছিয়ে পড়ে। ফলে আপাতত ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের নিয়ম বহাল থাকছে।