চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় আরও শক্তিশালী ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সৌদি আরব—এমন ইঙ্গিত মিলেছে দেশটির একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্রের উপগ্রহচিত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিয়াদের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্সে সম্প্রসারণকাজ চলছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তোলা উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এফপিআরআই) গবেষক স্যাম লেয়ার ও মাইকেল ডুইটসম্যান। তাঁদের ধারণা, নতুন অবকাঠামো আরও বড় ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে।

গবেষকদের বিশ্লেষণে নতুন ভবন, গভীর গর্ত এবং বিস্ফোরণের চাপ সামাল দেওয়ার উপযোগী দেয়ালের মতো কাঠামো দেখা গেছে। এসব স্থাপনা কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করাও তুলনামূলক সহজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে চীনের প্রযুক্তির মিল রয়েছে। ১৯৮৭ সালে চীন থেকে প্রায় ৪০টি ডিএফ-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছিল সৌদি আরব।

এফপিআরআইয়ের গবেষক স্যাম লেয়ারের ধারণা, সৌদি আরব চীনা নকশার ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করে থাকতে পারে। নতুন স্থাপনা সম্প্রসারণের লক্ষ্য আরও দূরপাল্লার ডিএফ-২১ অথবা একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব বা চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়লে ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।