এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে বুধবার জানিয়েছেন যে, হাইতির গ্যাংগুলো জাতিসংঘ-সমর্থিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর চার সালভাদরীয় সদস্যকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছেন।

হাইতির পুলিশকে শক্তিশালী গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার দায়িত্বে থাকা ‘গ্যাং দমন বাহিনী’ (Gang Suppression Force) এবং এল সালভাদরের সামরিক বাহিনী চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ সালভাদরীয়দের উদ্ধারের প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছিল। তবে তারা জানায়, ওই এলাকায় তীব্র লড়াই চলায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বুকেলে বলেন, “তাদের উদ্ধারের জন্য আমরা আজ একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছি।”তবে তিনি এই অভিযানের বিস্তারিত কিছু জানাননি বা সালভাদরীয়দের জিম্মি করে রাখা গোষ্ঠীটির পরিচয়ও প্রকাশ করেননি। ‘গ্যাং দমন বাহিনী’-র কাছে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার রাজধানী হাইতি সিটির উপকণ্ঠে একটি বাজার থেকে ঘাঁটিতে ফেরার পথে সশস্ত্র গ্যাংগুলো একটি সাঁজোয়া যানে হামলা চালায়। যানটিতে আগুন ধরে গেলে চার সালভাদরীয় সদস্য সেখান থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক শূন্যতা, ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহের সুযোগ নিয়ে হাইতির গ্যাংগুলো রাজধানীতে নিজেদের প্রভাব সুসংহত করেছে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

চাদ ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশ ‘গ্যাং দমন বাহিনী’-তে সৈন্য পাঠিয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরুর এক বছর পরও এই বাহিনী তাদের পরিকল্পিত শক্তির মাত্র এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে এবং হাইতির নিরাপত্তায় তাদের প্রভাব খুবই সীমিত। বুকেলে জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোনো যোদ্ধা নন, বরং তারা বিমান রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমাদের মিশনে কেবল পাইলট ও কারিগরি কর্মীরা রয়েছেন। তাদের মূল কাজ হলো প্রয়োজনে অসুস্থ বা আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) এবং জীবন বাঁচানো; যুদ্ধ করা নয়।”