ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর অনেকের চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। গোসলের সময়, চিরুনিতে কিংবা বালিশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল দেখে উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর জ্বর ও সংক্রমণের পর এ ধরনের চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক। একে বলা হয় ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’।
উচ্চ জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ, ক্ষুধামন্দা ও দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার কারণে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এতে বেশি সংখ্যক চুল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং পরে ঝরে পড়ে। সাধারণত অসুস্থতার দুই থেকে চার মাস পর এই সমস্যা স্পষ্ট হতে পারে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের চুল পড়া সাময়িক। চুলের স্বাভাবিক চক্র ফিরে এলে নতুন চুল গজাতে শুরু করে। তবে পুরোপুরি ঘনত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী চুল পড়ার পেছনে আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্য কারণও থাকতে পারে।
- প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান: ডিম, মাছ, দুধ, ডাল, ছোলা ও সয়াবিন খাদ্যতালিকায় রাখুন।
- আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান: শাকসবজি, ডাল ও অন্যান্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খেতে পারেন।
- চুলে কোমল আচরণ করুন: ভেজা চুল জোরে আঁচড়ানো, অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ ও ঘন ঘন রাসায়নিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন: সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফেরা সুস্থ হতে সহায়তা করে।
- নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট খাবেন না: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, জিঙ্ক বা বায়োটিন গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।
চুল পড়া খুব বেশি হলে, মাথায় টাকের মতো জায়গা তৈরি হলে কিংবা কয়েক মাসেও উন্নতি না হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি রক্ত পরীক্ষা করে পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো সমস্যা শনাক্ত করতে পারেন।
মনে রাখবেন, ডেঙ্গুর পর চুল পড়া মানেই স্থায়ীভাবে চুল হারানো নয়। সঠিক পুষ্টি, ধৈর্য এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসে।

মন্তব্য করুন