বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে যুগোপযোগী ব্যবহারিক শিক্ষা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও শিক্ষাগত নেতৃত্বের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার সকালে রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) প্রফেসর ড. এম. এইচ. খান মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ (আইসিকেআইইএল-২০২৬)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এইউএসটি, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়া (ইউএসআইএম) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইউএসআইএমের উপাচার্য অধ্যাপক দাতো টিএস ড. শরিফুদিন বিন মোহাম্মদ শারানী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে বিজ্ঞান, উন্নত প্রযুক্তি ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক জ্ঞানের চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।

সম্মেলনে অনলাইনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের প্রধান নির্বাহী ও হার্ভার্ডের গবেষক অধ্যাপক ড. ওমর হাসান কে. কাসুলে সিনিয়র। তাঁর প্রবন্ধের বিষয় ছিল ‘জ্ঞান সমন্বয় এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব’।

বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তার দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তবমুখী পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উদ্ভাবন, সমস্যা সমাধান ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্তত ১৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নিচ্ছেন। এতে প্রায় ১০০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ‘ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন’, তুরস্কের ‘মারিফ মডেল’ এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘মারদেকা কারিকুলাম’সহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা মডেল নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, শিক্ষানীতি সংস্কার, খাদ্য উদ্ভাবন ও জ্ঞানতত্ত্ব বিষয়ে একাধিক একাডেমিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামী ১৯ অক্টোবর সম্মেলনটি শেষ হবে। সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন, এমপির।