সমুদ্রের দিকে তাকালে কখনো দেখা যায় গাঢ় নীল জলরাশি, কখনো ফিরোজা, আবার কোথাও সবুজাভ পানি। অনেকেই মনে করেন, আকাশের নীল রং প্রতিফলিত হওয়ার কারণেই সমুদ্র নীল দেখায়। তবে এর পেছনে রয়েছে আলোর শোষণ ও বিচ্ছুরণসহ বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
সূর্যের সাদা আলো আসলে বিভিন্ন রঙের আলোর সমষ্টি। এই আলোগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যও আলাদা। সূর্যের আলো সমুদ্রের পানিতে প্রবেশ করলে পানি লাল, কমলা ও হলুদের মতো দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো তুলনামূলক বেশি শোষণ করে। অন্যদিকে, নীল আলো পানির মধ্যে তুলনামূলক বেশি দূর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। পানির অণুর সঙ্গে আলোর মিথস্ক্রিয়ার ফলে নীল আলোর একটি অংশ আমাদের চোখে ফিরে আসে। এ কারণেই গভীর ও স্বচ্ছ সমুদ্রকে সাধারণত নীল দেখায়।
তবে সব সমুদ্রের রং এক রকম নয়। পানির গভীরতা, স্বচ্ছতা, তলদেশের প্রকৃতি এবং পানিতে থাকা বিভিন্ন কণার কারণে রঙের পরিবর্তন ঘটে।
অগভীর পানিতে সূর্যের আলো বালুময় তলদেশ বা প্রবালপ্রাচীরে প্রতিফলিত হয়ে ফিরোজা কিংবা নীলচে-সবুজ রং তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, নদী থেকে আসা পলি ও বালুকণা পানিতে মিশলে সমুদ্রের পানি ঘোলা, ধূসর বা বাদামি দেখাতে পারে।
এ ছাড়া ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন নামের অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীবের উপস্থিতিও পানির রং বদলে দেয়। এদের মধ্যে থাকা ক্লোরোফিলের কারণে কিছু এলাকায় সমুদ্র সবুজাভ দেখায়।
সমুদ্রের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ক্রমেই কমে যায়। লাল আলো দ্রুত শোষিত হলেও নীল আলো তুলনামূলক বেশি গভীরে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রায় এক হাজার মিটারের নিচে সাধারণত সূর্যের আলো পৌঁছায় না।
অর্থাৎ, সমুদ্রের নীল রঙের মূল রহস্য শুধু আকাশের প্রতিফলন নয়; বরং সূর্যের আলো ও পানির পারস্পরিক ক্রিয়া।

মন্তব্য করুন