দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থামছে না। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ সড়কব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। অথচ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের দেওয়া ১১১টি সুপারিশের বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৪ হাজার ২৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৯১ জন।

গত ২০ অক্টোবর নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ২৫ জন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসের চালক ও সহকারী পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সুপারভাইজার বাস চালাতে শুরু করেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে সাতটি অগ্রাধিকার খাতে ১১১টি সুপারিশ দেওয়া হলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, চালকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং সড়কের নকশাগত ত্রুটি দূর করা।

সরকার ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা জানিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য ডিমেরিট পয়েন্টের বিধান রাখার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে প্রাণহানি কমাতে নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি পুরোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নিরাপদ সড়কের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেবে না।