ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু বাঙালিদের, যাদের বেশিরভাগই মুসলিম, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি দাবি করে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অনেক সময় মানুষকে জোর করে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেওয়ায় বহু পরিবার সীমান্তের ‘জিরো লাইন’-এ আটকা পড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুন থেকে বিএসএফের অন্তত ২১টি ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় ২০০ জনের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে, সীমান্ত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে।

এইচআরডব্লিউ আরও জানায়, তারা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে রাতে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে মানুষকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে অনেকের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে আটক ও সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আসামের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার পরও বহু মানুষের রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, সীমান্তে আটকে রাখা বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী এবং এটি বন্ধ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে কাউকে ফেরত পাঠানো হলে তাদের গ্রহণ করা হবে না এবং প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় অনেক মানুষ খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা ছাড়াই অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সংস্থাটি মন্তব্য করেছে।