সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে স্বাগত জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটির মতে, এ রায় জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার সময় থেকেই গণসংহতি আন্দোলন এর অগণতান্ত্রিক দিকগুলোর বিরোধিতা করে আসছে। তাদের ভাষ্য, জনগণের সম্মতি ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ, গণভোটের বিধান বাতিল এবং ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদের মতো বিধান সংযোজন গণতন্ত্র, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও সংবিধানের মৌলিক চেতনাকে ক্ষুণ্ন করেছিল।
তাদের মতে, আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায় সেই দীর্ঘদিনের অবস্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এই রায় জনগণের সার্বভৌমত্ব, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সাংবিধানিক ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা আরও বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে রাষ্ট্রক্ষমতার সাময়িক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে সংবিধানকে দলীয় বা কর্তৃত্ববাদী স্বার্থে পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার কোনো সরকারের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য খর্ব করা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।
তবে তারা মনে করেন, এই রায়ের মধ্য দিয়েই দেশের সাংবিধানিক সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সুসংহত করতে কার্যকর ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, সকল জাতিসত্তার সমঅধিকার, নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে।
বিবৃতিতে নেতারা সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন