একসময় হারিকেন ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। বিদ্যুতের আলো সর্বত্র পৌঁছানোর আগে সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত হারিকেন। সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেলেও পুরোনো দিনের সেই স্মৃতি এখনো মনে রেখেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানী।

স্ত্রী ও অভিনেত্রী মৌসুমীর সঙ্গে হারিকেন হাতে একটি ছবি প্রকাশ করে সেই নস্টালজিক সময়ের স্মৃতিই সামনে আনলেন তিনি। ৪ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট করেন ওমর সানী। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি হারিকেনের পুরোনো দিনের ব্যবহার এবং নিজের জন্মসালের কথাও স্মরণ করেন।

ওমর সানীর ওই পোস্টে উঠে এসেছে শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, ঢাকাই চলচ্চিত্রের হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের কথাও। একই পোস্টে তিনি ‘আখেরী রাস্তা’ সিনেমার একটি পোস্টার শেয়ার করেন। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন জনপ্রিয় অ্যাকশন অভিনেতা রুবেল।

নব্বইয়ের দশকে রুবেল অভিনীত সিনেমা ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক উন্মাদনা ছিল। সেই সময়ের জনপ্রিয়তা স্মরণ করে ওমর সানী জানান, রুবেলের সিনেমা মুক্তি মানেই ছিল কয়েক দিন ধরে প্রেক্ষাগৃহে হাউসফুল প্রদর্শনী।

পোস্টে সিনেমাটির পরিচালক হিসেবে সোহানুর রহমান সোহানের নামও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সেই সময়ের কয়েকটি পরিচিত সিনেমা হলের নাম তুলে ধরেন ওমর সানী। এর মধ্যে রয়েছে অভিসার, গীত, ডেমরার রাণীমহল, টাঙ্গাইলের মালঞ্চ, আলমডাঙ্গার জনি, নরসিংদীর মিতালি এবং ময়মনসিংহের অলকা হল।

তবে সময়ের পরিবর্তনে এসব প্রেক্ষাগৃহের প্রায় সবই এখন বন্ধ। একসময় জনপ্রিয় সিনেমা মুক্তি পেলেই এসব হলে দর্শকদের ভিড়, দীর্ঘ টিকিটের সারি আর টানা হাউসফুল শো ছিল খুবই পরিচিত দৃশ্য। সেই প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক সংস্কৃতির বড় অংশই এখন হারিয়ে গেছে।

বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে রুবেল ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাকশন নায়ক। তার সিনেমা মুক্তিকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হতো উৎসবের আমেজ। সময়ের সঙ্গে সিনেমা হল কমে যাওয়া এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ধরন বদলে যাওয়ায় সেই চিত্রও এখন অনেকটাই অতীত।

ওমর সানীর সাম্প্রতিক পোস্টে তাই ব্যক্তিগত নস্টালজিয়ার পাশাপাশি উঠে এসেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের একটি স্মরণীয় সময়ের ছবি। মৌসুমীর সঙ্গে হারিকেন হাতে তার ছবিটি যেমন ফিরিয়ে এনেছে পুরোনো দিনের আলো-আঁধারির স্মৃতি, তেমনি রুবেল ও হারিয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলোর প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়েছে ঢাকাই সিনেমার এক স্বর্ণালি অধ্যায়।