ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। পরে ঢাকার দোহার থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে দোহার থানার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশু মোজাহিদকে উদ্ধার করা হয়। সে ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি এলাকার উজ্জল মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে উজ্জল মিয়ার সঙ্গে রোজিনা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে রোজিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে উজ্জল মিয়া ও তার স্বজনরা কয়েকজন ব্যক্তিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং তাদের কাছে মোজাহিদকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করে দেন। পরদিন সন্তানকে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে রোজিনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর রোজিনা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। শিশুটিকে উদ্ধারের পর বুধবার মামলাটি করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া, দাদি আয়শা খাতুন, ফুফু শরিফা খাতুন এবং সন্দেহভাজন আবেদ মোল্লা ও তার স্ত্রী শিখাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন জানান, শিশুটিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন