ইউক্রেনে একের পর এক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোকা-কোলা, পেপসিকো ও ম্যাকডোনাল্ডসের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর সামনে এলেও এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সীমিত। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইউক্রেনে ব্যবসা করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এসব হামলায় মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বাড়ছে।
ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার জানান, রুশ হামলায় কোকা-কোলা, পেপসিকো, ম্যাকডোনাল্ডস ও ওরিওর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর কিয়েভের বাইরে কোকা-কোলার একটি কারখানায় ড্রোন হামলা হয় বলে জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি বার্তা।
আগস্টের শেষ দিকে মিকোলাইভ অঞ্চলে পেপসিকোর একটি উৎপাদনকেন্দ্র রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রুশ ড্রোন হামলায় কিয়েভ অঞ্চলে ম্যাকডোনাল্ডসের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির ইউক্রেন শাখা ঘটনাটি নিশ্চিত করে। গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের তালিকাও সীমিত করতে হয়েছে।
হান্ডার জানান, মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিল তাদের সংগঠন। তবে সে অনুরোধের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় হোয়াইট হাউজকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধে চাপ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। হামলা বন্ধ না হলে কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ সীমিত করার হুমকিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফলে ইউক্রেনে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রুশ হামলার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন