বুধবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকের কাছে ইরাকি সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি লক্ষ্য করে পেতে রাখা বোমার আঘাতে সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার ও একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ মাসে ওই এলাকায় ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি ছিল দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিরকুক থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দক্ষিণে ‘ইসলামিক স্টেট’-এর একটি আস্তানায় তল্লাশি চালানোর সময় সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের ওপর এই বোমা হামলাটি চালানো হয়; এর আগের দিনই ইরাকি যুদ্ধবিমান ওই আস্তানাটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
এই হামলায় আরও দুজন সৈন্য আহত হয়েছেন। এর আগে ৫ অক্টোবর কিরকুকের দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘দায়েশ’ (আইএস) জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আরেকটি হামলা চালিয়েছিল, যার দায় তারা স্বীকারও করেছিল। মেশিনগান ও স্নাইপার রাইফেলধারী বন্দুকধারীরা ফেডারেল পুলিশের একটি অবস্থানে হামলা চালালে একজন ফেডারেল পুলিশ সদস্য নিহত ও চারজন আহত হন।
সর্বশেষ এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী তাদের সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন করে দেশটিতে তাদের সামরিক অভিযানের ইতি টেনেছে।
ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ‘ইসলামিক স্টেট’-এর ‘স্লিপার সেল’ বা সুপ্ত গোপন দলগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং তারা অতর্কিত বা ‘হিট-এন্ড-রান’ হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। ইরাকি বাহিনীর বিদ্রোহ-দমন অভিযান অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা হামলার চেষ্টা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান-পন্থী ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সমর্থকরা মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘটনাটি উদযাপন করেছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনা তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জেরে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রেক্ষাপটে।


মন্তব্য করুন