খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপে পড়ছে বিভিন্ন দেশের সাধারণ পরিবার। বিশেষ করে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ এবং আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় ‘সংকটের যুগে খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আইএমএফের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিভিন্ন অঞ্চলে সংকট তৈরি করছে। এর সঙ্গে অভিবাসন ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
জিবুতির অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ বলেন, খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাঁদের দেশ গুদাম, পরিবহন করিডর ও শস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ করেছে। তবে হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত ব্যবস্থাগুলো কার্যকর রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি একসঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকোয়া) নির্বাহী সচিব রানিয়া আল-মাশাত বলেন, ভঙ্গুর দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন জরুরি। জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও খাদ্য সরবরাহের পথ নিরাপদ রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনা সভায় আইএমএফের মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া বিভাগের পরিচালক জিহাদ আজহার, বুরকিনা ফাসোর অর্থ ও অর্থসংস্থানমন্ত্রী আবুবাকার নাসানাবো এবং সোমালিয়ার অর্থমন্ত্রী বিহি ইমান এগেহসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় উঠে আসে, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং জলবায়ু ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর খাদ্যপ্রাপ্তি ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন