মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তাঁর পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে। এ বিষয়ে যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ১(ক) দফা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। একই অনুচ্ছেদের ৫ দফায় মন্ত্রীর সংজ্ঞায় প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরাও অন্তর্ভুক্ত। ফলে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের ক্ষেত্রেও একই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক। ওই সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ওই দিন ইশরাকের দপ্তর থেকে পদত্যাগের খবর অস্বীকার করা হয়েছিল।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে দল বিব্রত হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ভুল করেননি বলে দাবি করেন তিনি। আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন বলেও জানান।
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান। ইশরাকের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদটি শূন্য হবে। তাঁর পদত্যাগের ফলে মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২৩ জনে। মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন ২৬ জন।

মন্তব্য করুন