সকাল ও সন্ধ্যার বাতাসে মিলছে শীতের আগমনী বার্তা। গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট পেরিয়ে রাজধানী ঢাকাতেও অনুভূত হচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া। দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি থাকলেও রাতের দিকে হিমেল বাতাসে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। কোথাও কোথাও ভোরে কুয়াশার উপস্থিতিও জানান দিচ্ছে শীতের আগমনের কথা।
হেমন্তের এই সময়ে প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে নানা পরিবর্তন। শিশিরভেজা ঘাস, শিউলির ঝরে পড়া পাপড়ি, রঙিন ফুল আর দিগন্তজোড়া সরিষার খেতের হলুদ আভায় ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে বাংলার চিরচেনা প্রকৃতি। শীতের আগমনে প্রকৃতির এই রূপ আরও মনোরম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা প্রকৃতিপ্রেমীদের।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করলেও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। শনিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। কোনো কোনো অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও কমতে শুরু করেছে। ফলে আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে শীতের অনুভূতি তুলনামূলক আগে আসে। অন্যদিকে, গাছপালা কম ও অবকাঠামো বেশি থাকায় রাজধানীর মতো শহরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি কিছুটা দেরিতে বাড়ে।
তিনি আরও জানান, চলতি মাসে তাপমাত্রার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরের দিকে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে এল নিনোর প্রভাব শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি পূর্বাভাসে স্বাভাবিকের সমান বা বেশি তাপমাত্রার ইঙ্গিত থাকলেও অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

মন্তব্য করুন