ক্রিকেট মাঠে বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের কাঁপিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠের বাইরের এক ভয়াবহ অপরাধের কারণে তার জীবনের পরিণতি হয় করুণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার লেসলি হিলটন টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার দায়ে ১৯৫৫ সালে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় তাকে।
জ্যামাইকার এই ক্রিকেটার ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন। ছয়টি টেস্টে তার শিকার ছিল ১৬ উইকেট। ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ১৯৪২ সালে লুরলাইন রোজকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান।
তবে কয়েক বছর পরই তাদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে অশান্তি। ফ্যাশন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য নিউইয়র্কে গিয়ে লুরলাইন রোজ রয় ফ্রান্সিস নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্ত্রীর এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন হিলটন।
একপর্যায়ে স্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। লুরলাইন সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। হিলটন তার স্ত্রীকে সাতটি গুলি করে হত্যা করেন।
ঘটনার পর হিলটনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা চলে। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং প্রাণভিক্ষার আবেদন করেও কোনো সুরাহা পাননি তিনি। সব আইনি চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৫৫ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত মুখ লেসলি হিলটনের জীবন এভাবেই শেষ হয় এক মর্মান্তিক পরিণতিতে। ক্রিকেটের ইতিহাসে তার নাম রয়ে গেছে এক অপরাধ ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে।

মন্তব্য করুন