সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী নাজরান অঞ্চলে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে হুথিদের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুথিদের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় হেলিকপ্টারটিকে ভূপাতিত করা হয়। তবে হেলিকপ্টারটি কীভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে কিংবা এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি গোষ্ঠীটি।
হুথি পরিচালিত বার্তা সংস্থা সাবায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সীমান্তের কাছে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে শত্রুতাপূর্ণ অভিযান চালাচ্ছিল সৌদি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি। এ সময় হুথি যোদ্ধারা সেটিকে ভূপাতিত করেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে হুথিদের এই দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সংঘাতের অংশ হিসেবে সৌদি বাহিনী হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল্টা জবাবে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল অবকাঠামোতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও একাধিক প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
তবে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় অঞ্চলটিতে আবারও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। হেলিকপ্টার ভূপাতিতের দাবিটি সত্য হলে তা সৌদি-হুথি সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


মন্তব্য করুন