রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ২৫ বছর বয়সী তরুণ মো. সাগর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাশিয়ায় থাকা তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। ছেলের মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মধ্যে। এখন শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে চান অসহায় বাবা কবির হোসেন।

সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেনের ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে কিশোর বয়স থেকেই কাজ শুরু করেন তিনি। উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে রিকশা-ভ্যান চালিয়ে পরিবারকে সহায়তা করতেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি দোকানের এক ম্যানেজারের সহযোগিতায় প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়া যান সাগর। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ শুরু করেন। মাসে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি।

পরে এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই দালাল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে এককালীন ৩০ লাখ টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখান। সেই প্রলোভনে পড়ে চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেন সাগর বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল জানান, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা শুনে তিনি সাগরকে নিষেধ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দালাল ভুল তথ্য দিয়ে সাগরকে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। শনিবার সাগরের এক বন্ধু ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান।

ছেলের বিদেশযাত্রার জন্য অনেক ধারদেনা করতে হয়েছিল বলে জানান বাবা কবির হোসেন। তিনি বলেন, চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। এখন ছেলের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছেন। সরকারের কাছে তাঁর আকুতি, শেষবারের মতো যেন ছেলের মুখ দেখতে পারেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চান তিনি।

এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।