বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি, আলবেনিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও তুরস্কে নানা দাবিতে রাজপথে নেমেছেন মানুষ। কোথাও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কোথাও আবাসন ও শিক্ষাসংকট, আবার কোথাও পেনশন ও রাজনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষার ব্যয় ও সরকারি খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, কম মজুরি ও আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন হাজারো মানুষ। ইতালিতেও মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ব্যয়, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ চলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করে ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
আর্জেন্টিনায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিক্ষোভ করেছেন। তুরস্কে মূল্যস্ফীতি ও অপর্যাপ্ত পেনশন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা।
দেশভেদে দাবিগুলো আলাদা হলেও এসব আন্দোলনের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য, বৈষম্য ও সরকারি নীতির প্রতি অনাস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোথাও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি দেশে তা সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের অর্থনৈতিক চাপ কমানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নত করা এখন অনেক দেশের সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন