আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগাম নির্বাচনের আগে, স্পেনের বামপন্থী সরকার মঙ্গলবার নতুন কিছু সামাজিক সুবিধা অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের দেখাশোনা করা পরিবারগুলোর জন্য বর্ধিত সহায়তা। এই পদক্ষেপগুলোর আওতায় মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তিজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা নারীদের জন্য সাময়িক অসুস্থতাজনিত ভাতা (সিক পে) প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, অবিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রেও সঙ্গীর মৃত্যুর পর পেনশন পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সরকারি মুখপাত্র এলমা সাইজ এই সিদ্ধান্তের সময়কাল নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে বলেন, নাগরিকদের প্রয়োজন মেটানো সরকারের দায়িত্ব। সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই সরকার তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা সরকারের অব্যাহত দায়িত্ব।” একটি রাজকীয় ডিক্রি-আইনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে এগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে; তবে ৩০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে। সাইজ জানান, সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়ানোটা সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচকগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ঘোষণার আগে, চলতি মাসের শুরুর দিকে স্পেনের নির্বাচন কমিশন সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের বিরুদ্ধে একটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পরের দিন নিজের সরকারি বাসভবন ‘মোনক্লোয়া’ থেকে তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, যা নিয়ে এই আপত্তি ওঠে। নির্বাচন কমিশনের মতে, সানচেজ কেবল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি নিজের সরকারের সাফল্যের গুণগান গেয়েছেন, বিরোধী দলের সমালোচনা করেছেন এবং পার্লামেন্টে আরও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কমিশন জানায়, “প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে পারেন বা অন্য দলের অবস্থানের সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি তাঁর সরকারি পদের সুবাদে প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে এমনটা করতে পারেন না।” তবে কমিশন আরও বলেছে যে, নির্বাচনী প্রচার চলছে বলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম থেমে থাকবে না—যার মধ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনের আগে অধিকাংশ জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সানচেজের সমাজতন্ত্রী দল প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল ‘পপুলার পার্টি’ (পিপি)-এর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।