https://timenewsbangla.com

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।
এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও তারা নজর রাখবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে এবং সরকারি দফতরগুলোকে পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ দেওয়া, বদলি বা পদায়ন করা কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করার ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়নি।
৩০ জনের হাতে ৬৪ জেলা
দায়িত্ব পাওয়া ৩০ জনের মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ১৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন জাতীয় সংসদের হুইপ। ১৩ মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছে ২৩ জেলা, ১৪ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ৩৩ জেলা এবং তিন হুইপের অধীনে রয়েছে আট জেলা।
সাতজনকে একটি করে, ১২ জনকে দুটি করে এবং ১১ জনকে তিনটি করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রীদের মধ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ পেয়েছেন রাজশাহী ও নাটোরের দায়িত্ব। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দায়িত্বে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়। আবদুল আউয়াল মিন্টু পেয়েছেন লক্ষ্মীপুর, নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজারের দায়িত্ব।
মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন চট্টগ্রামের দায়িত্ব। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের অধীনে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা। আসাদুল হাবিব দুলু পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর। মো. আসাদুজ্জামানের দায়িত্বে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট। জাকারিয়া তাহের পেয়েছেন ফেনী ও নোয়াখালী, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল পেয়েছেন মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রু পেয়েছেন কক্সবাজারের দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মো. শরীফুল আলম পেয়েছেন টাঙ্গাইল ও নরসিংদী। শামা ওবায়েদ ইসলাম পেয়েছেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুর। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দায়িত্বে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ। আব্দুল বারী পেয়েছেন বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পেয়েছেন ঢাকা, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি। হাবিবুর রশিদের দায়িত্বে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ। মো. রাজিব আহসান পেয়েছেন বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর।
মীর শাহে আলমের দায়িত্বে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম। ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা। শেখ ফরিদুল ইসলামের দায়িত্বে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল। ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ। আহমেদ সোহেল মঞ্জুর পেয়েছেন বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার পেয়েছেন জয়পুরহাট ও নওগাঁ।
তিন হুইপের মধ্যে জি কে গউস পেয়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের দায়িত্ব। মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদের দায়িত্বে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ। এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের দায়িত্বে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর।
যেসব বিষয় তদারকি করবেন
দায়িত্বপ্রাপ্তরা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুরুতর অপরাধ দমন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অগ্রগতিও তারা পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের প্রচলিত প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করছে না। বরং জেলা পর্যায়ে সরকারের কার্যক্রমের ওপর রাজনৈতিক তদারকি ও সমন্বয়ের একটি নতুন ব্যবস্থা হিসেবে এটি কার্যকর হবে।