ঘরে তৈরি দই, আচার, দোসা কিংবা গাঁজানো সবজি—ফার্মান্টেড ফুড বা গাঁজন করা খাবার অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। এসব খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে সবার শরীরে এগুলো একইভাবে কাজ করে না। কিছু শারীরিক সমস্যা, খাদ্য অসহিষ্ণুতা কিংবা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলে এসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
যাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন
১. হিস্টামিন ইনটলারেন্স রয়েছে যাদের
কিছু গাঁজন করা খাবারে হিস্টামিন বেশি থাকতে পারে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের এসব খাবার খাওয়ার পর মাথাব্যথা, চুলকানি, মুখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে খাবারভেদে হিস্টামিনের পরিমাণ ভিন্ন হয়।
২. ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে যাদের
দই ও ইয়োগার্টে গাঁজন প্রক্রিয়ার কারণে ল্যাকটোজের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তাই অনেকেই দুধের তুলনায় এসব খাবার সহজে হজম করতে পারেন। তবে কারও কারও পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
৩. দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যাদের
কেমোথেরাপি নেওয়া ব্যক্তি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ গ্রহণকারীদের খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তাঁদের অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি, অপাস্তুরিত বা ভুলভাবে সংরক্ষিত খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকা উচিত।
৪. যাদের লবণ সীমিত করতে হয়
আচার ও কিছু গাঁজানো সবজিতে সোডিয়াম বেশি থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লবণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
৫. হজমের সমস্যা রয়েছে যাদের
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিছু গাঁজন করা খাবার পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে, তা শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
ফার্মান্টেড ফুড খাওয়ার পর বারবার অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খাবার পরিষ্কার পরিবেশে তৈরি ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। সবার জন্য এসব খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করাই ভালো।

মন্তব্য করুন