উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশসহ অন্তত ২৯টি দেশের নাগরিককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। বেসামরিক চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশিদের প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে কমিশনের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে গাইবান্ধার ২৭ বছর বয়সী রিমেল মিয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ভালো চাকরির আশায় ঢাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রকে ছয় লাখ টাকা দিয়ে রাশিয়ায় যান তিনি। পরে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরির বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে যোগাযোগ করলে তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি যুদ্ধবন্দি রয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও অন্তত দুই বাংলাদেশির যুদ্ধবন্দি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ৪৮টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে প্রতারণা, জবরদস্তি ও মানবপাচারের প্রমাণ পেয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের নাগরিকদের নাম রয়েছে তালিকায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নিয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশায় চাকরির প্রলোভন দেখানো হতো। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেকের পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হতো। অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চুক্তিতে সইয়ের পর কাউকে মাত্র ২০ মিনিট, আবার কাউকে সর্বোচ্চ এক মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া ছাড়াও তাঁদের পরিখা খনন ও রসদ সরবরাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হতো। প্রতিশ্রুত বেতন না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এসব হামলায় বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতারণার শিকার বিদেশিদের মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরানো, নিয়োগের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের মানবপাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের কমিশন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।