https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্সের পতনের পেছনে শুধু ইরান যুদ্ধ বা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং দীর্ঘদিনের দুর্বল গ্রাহকসেবাই বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক সংকট ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যাত্রীদের কাছে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পতন একপ্রকার অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
করোনা মহামারির আগ থেকেই লাভজনক অবস্থানে ছিল না স্পিরিট। গত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে আসছিল যে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে সংকট আরও তীব্র হয়।
অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি উড়োজাহাজ ও বিমানবন্দরের গেট বিক্রির উদ্যোগ নেয়, কর্মী ছাঁটাই করে এবং দ্বিতীয়বারের মতো দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের মূল কারণ ছিল গ্রাহক অসন্তোষ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এবং সবচেয়ে কম গ্রাহক সন্তুষ্টির রেকর্ড ছিল স্পিরিটের। যাত্রীদের অভিযোগের মধ্যে ছিল প্রায় সব ধরনের সেবার জন্য অতিরিক্ত ফি, এমনকি হাতব্যাগ বহনের ক্ষেত্রেও আলাদা চার্জ। এছাড়া উড়োজাহাজে আসনের জায়গা অত্যন্ত সংকুচিত হওয়ায় দীর্ঘ ভ্রমণে যাত্রীরা চরম অস্বস্তির মুখে পড়তেন।
বিশ্লেষক মাইক বয়েডের মতে, কেবল কম ভাড়ার ওপর নির্ভর করে এখন আর বিমান ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। যাত্রীরা সাশ্রয়ী ভাড়া চাইলেও ন্যূনতম আরাম ও সেবার প্রত্যাশা করেন।
একসময় সাশ্রয়ী ভাড়ার পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত স্পিরিট ২০১৯ সাল পর্যন্ত লাভজনক ছিল। তবে মহামারির পর যাত্রীরা তুলনামূলক ভালো সেবার জন্য বেশি খরচ করতেও রাজি হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিরিট পরে বড় আসন, লাগেজ সুবিধা ও খাবারসহ বিভিন্ন প্যাকেজ চালু করলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পিরিটের পতন মানেই সব বাজেট এয়ারলাইন্সের ভবিষ্যৎ অন্ধকার নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আরও কয়েকটি কম খরচের বিমান সংস্থা এখনও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পিরিটের বাজার থেকে সরে যাওয়া কিছু রুটে বিমান ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে কম খরচে ভ্রমণের চাহিদা থাকায় অন্য সাশ্রয়ী বিমান সংস্থাগুলো সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে।