https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রাজধানীর কুর্মিটোলায় ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দরটি এখনো আঞ্চলিক কার্গো হাব হিসেবে গড়ে ওঠেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা, অবকাঠামো, আধুনিক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ও ট্রান্সফার কার্গো পরিচালনার সক্ষমতার ঘাটতিই এর অন্যতম কারণ। ফলে আঞ্চলিক কার্গো হাব হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাম্প্রতিক এক সভায় উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, শাহজালালের বর্তমান রপ্তানি কার্গো ভিলেজের গুদামকে কার্গো হাবে রূপান্তর করা গেলে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ১০০ মেট্রিক টন ট্রান্সফার কার্গো পরিচালনা সম্ভব। প্রতি কেজি কার্গো থেকে ২৫ সেন্ট হারে বছরে প্রায় ৯ দশমিক ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২১ কোটি টাকা আয় হতে পারে। সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো পরিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানসহ বিভিন্ন দিক থেকে শাহজালাল কার্গো হাব হিসেবে উপযুক্ত হলেও এতদিন এটি ট্রান্সফার কার্গো বা হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। এর অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত লজিস্টিক সুবিধার অভাব। তিনি শাহজালালকে কার্গো হাবে রূপান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শুরু থেকেই সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিমানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ সভায় বলেন, বাংলাদেশের কাছাকাছি হংকং ও দুবাইয়ের মতো বিমানবন্দর সফল কার্গো হাব হিসেবে গড়ে উঠলেও ঢাকা এখনো পিছিয়ে রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনালকেন্দ্রিক নতুন এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল চালু হলে ঢাকাকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
এর মাধ্যমে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দূরপ্রাচ্যের মধ্যে কার্যকর কার্গো সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গো পরিবহনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমান রপ্তানি কার্গো ভিলেজের গুদামটি এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনালের সঙ্গে যৌথভাবে রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হবে। তবে ট্রান্সফার কার্গোর জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো উপযোগী নয়। ফলে পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সফার ও ট্রানজিট কার্গো কার্যক্রম চালাতে নতুন বা উপযুক্ত অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের কার্গো রপ্তানি বাজারেও রয়েছে বড় সম্ভাবনা। সভায় বিমানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এর প্রায় ১২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন, আকাশপথে পরিবহন করা হয়। এর বড় একটি অংশ পরিবহন করে কার্গো বিমান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঢাকাকে কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে একদিকে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বাড়বে, অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রাজস্বও বাড়বে। ভবিষ্যতে বিমানের বহরে কার্গো বিমান যুক্ত করা গেলে এ খাতে আরও সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে বর্তমানে বিমানের বহরে কোনো কার্গো বিমান নেই।
কার্গো হাব গড়ে তুলতে ঢাকার কাস্টমস নজরদারি বাড়ানো, আধুনিক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু এবং সিঙ্গাপুরসহ সফল কার্গো হাবগুলোর কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কার্গো হাবের বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধাগুলোও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পণ্য পরিবহনের ভাড়া সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার নির্ধারণ করবে এবং এ ক্ষেত্রে ট্যারিফ কাঠামো ও সম্ভাব্য লাভজনকতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
কার্গো হাব সম্প্রসারণের আলোচনায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেও যুক্ত করার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে সেখানে বাংলাদেশ বিমানের রেগুলেটেড এজেন্ট থার্ড কান্ট্রিজ সেবা না থাকায় শিগগিরই চট্টগ্রামকে এই কার্গো নেটওয়ার্কে যুক্ত করা সম্ভব হবে না বলে সভায় জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও কাস্টমস সুবিধা নিশ্চিত করে শাহজালালকে আঞ্চলিক কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ শুধু ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট বাণিজ্যেই এগিয়ে যাবে না, প্রতিবছর শত কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগও তৈরি হবে।