https://timenewsbangla.com

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নয় বছর পর দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক উদ্যোগের পরও প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বরং রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বর্তমানে রাখাইনের বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মূল সমঝোতা হবে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে, নাকি মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ প্রয়োজন হবে।
মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া প্রত্যাবাসন শুরু সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য শুধু সীমান্ত পার করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যথেষ্ট নয়। রাখাইনে স্থায়ী নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও চলাচলের অধিকার, সম্পত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতাও গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা আরাকান আর্মির সঙ্গে বোঝাপড়া ছাড়া প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন কঠিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহাব আনাম খানের মতে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা গেলে ধাপে ধাপে আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্ট—রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই সমাধান। তবে রাখাইনের চলমান যুদ্ধ ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রত্যাবাসনের চাবিকাঠি এখন আর শুধু ঢাকা ও নেপিডোর হাতে নেই।