https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশের অনেক খাল ও জলাধার তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নদীর নাব্যতা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর। তবে সরকারের চলমান খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় নদী দিবসকে সামনে রেখে দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনরুদ্ধার ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়। কারণ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো পানিপ্রবাহ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের কাজ সম্পন্নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চে জাতীয় পর্যায়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল ভরাট হয়ে গেলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যায়। আবার বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির চলাচল স্বাভাবিক হলে নদীর প্রবাহও সচল হয়। এতে নদীর তলদেশে জমে থাকা পলি ধীরে ধীরে সরে গিয়ে নাব্যতা ফিরে আসে। একই সঙ্গে মাছের প্রজনন বাড়ে, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পায় এবং জীববৈচিত্র্যও পুনরুদ্ধার হয়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বহু নদীর সঙ্গে যুক্ত পুরোনো খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীগুলো শুকিয়ে পড়ছে। পুনঃখননের মাধ্যমে সেই প্রাকৃতিক সংযোগ আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
সরকারের পক্ষ থেকে খাল খননের পাশাপাশি খালপাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কাজও করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ব্যক্তি উদ্যোগেও সরকারি খাল পুনঃখননে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, সেগুলো যাতে পুনরায় দখল বা ভরাট না হয়, সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরী বলেন, নদীকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একটি নদীর সঙ্গে অসংখ্য খাল, বিল ও জলাধার সংযুক্ত থাকে। এসব খাল সচল থাকলে নদীর পানিপ্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকে।