কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুরে নতুন ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের ভোল্টেজ সমস্যা দূর হবে। এতে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে নির্বিঘ্ন সেচ নিশ্চিত হয়ে বছরে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩০০ টন ধান উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।

বিএমডিএর রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, অতিরিক্ত ধান উৎপাদনের বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি টাকা হতে পারে। বর্তমানে দীর্ঘ বিতরণ লাইনের কারণে বিদ্যুৎচালিত লো-লিফট পাম্পগুলো (এলএলপি) পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

রৌমারী ও রাজিবপুরে সেচব্যবস্থা আধুনিক করতে গত তিন বছরে ৩৬টি বিদ্যুৎচালিত এলএলপি স্থাপন করেছে বিএমডিএ। পাশাপাশি ২৯ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন, দেড় কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ ইউপিভিসি পাইপলাইন ও প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এতে সেচ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আগে ডিজেলচালিত পাম্পে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ দিতে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হলেও এলএলপির মাধ্যমে তা কমে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ সেচ খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে।

তবে জামালপুর গ্রিড সাবস্টেশন থেকে রৌমারীর দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার এবং রাজিবপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ গ্রিডের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। দীর্ঘ বিতরণ লাইনের কারণে ভোল্টেজ কমে যাওয়ায় সেচ প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে রৌমারী ও রাজিবপুর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে জামালপুরের বকশীগঞ্জে নতুন ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

কৃষকদের অভিযোগ, ভোল্টেজ সংকটের কারণে সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থার পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। বাসস