সাইকেল চালানোর জন্য এবার মিলল আলাদা পথ। দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। নগরের পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়কে নির্মিত এই ট্র্যাক সাইকেলচালকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ও শরীরচর্চায় উৎসাহ জোগাবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ট্র্যাকটির উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ট্র্যাকটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর সঙ্গে রয়েছে ফুটপাত, সড়কের মাঝখানে বিভাজক এবং সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাইকেল চালানো কেবল বিনোদনের বিষয় নয়। অনেক মানুষ সাইকেলে করে অফিসে যাতায়াত করেন এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করেন। তাদের জন্য নিরাপদে চলাচলের জায়গা থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘এগুলো একটি নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা। এটা কোনো বিলাসিতা নয়। দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা। একটি সভ্য দেশে, উন্নত দেশে সাধারণ নাগরিকের এগুলো চাহিদা। এগুলো আমাদের পূরণ করতে হবে। সবার জন্য জায়গা সৃষ্টি করতে হবে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এ উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে আরও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নাগরিকেরা সাইকেলে যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ পাবেন।
সাইকেল চালানোর উপযোগী পথের পাশাপাশি হাঁটার রাস্তা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জায়গার অভাবে অনেকে হাঁটাচলা করতে পারেন না উল্লেখ করে যেখানে সম্ভব, সেখানে হাঁটার পথ নির্মাণের জন্য মেয়রকে অনুরোধ জানান। বিশেষ করে খালের দুই পাশে হাঁটার রাস্তা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
মেয়র জানান, ট্র্যাকটি প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। সাইকেল চালানোর পথের পাশাপাশি হাঁটার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন এই সাইকেল ট্র্যাক চালুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্তব্য করুন