https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশজুড়ে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ মামলায় ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণও নির্ধারিত রয়েছে। বিচারাধীন বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ প্রসিকিউশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে চারজন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এটি অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এয়ারকন্ডিশনিং ব্যবস্থা বন্ধ থাকা, শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত না হলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজন হলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তও করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন।
একই হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা হলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজধানীর ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা মহানগরে পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গভীর রাতেও চালকেরা ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্রাফিক অটোমেশন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে রাজধানীতে এর দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। পরে এই ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য বড় শহরেও সম্প্রসারণ করা হবে।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও টমটমের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব যানবাহনের চালকদের জীবিকা বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
আসন্ন বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপের অংশ। বৈঠকে মাদক পাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা হবে।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশের বাহিনী যদি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বা শূন্যরেখায় প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটায়, সেটিই সীমান্ত হত্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানসংক্রান্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভারত থেকে সম্ভাব্য ‘পুশ-ইন’ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশ-ইন বা পুশ-ব্যাকের বিরোধী। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক পরিচয় যাচাইসংক্রান্ত কোনো তালিকা পাঠানো হলে তা কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে এ ধরনের কোনো বিষয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঝুলে নেই বলে জানান তিনি।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক এখতিয়ার এবং এ বিষয়ে অন্য কারও মন্তব্য করার সুযোগ নেই।