ঢাকা
২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
হঠাৎ কেন রাশিয়া সফরে ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধান নারীকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিলেন পুলিশ সদস্য সালমানের সঙ্গে বিরোধে যেভাবে ক্ষতির শিকার হন বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল, গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দায়িত্ব আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মহানবীর আদর্শ অনুসরণে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ যে কারণে গ্রেফতার হলেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক আদালতে জবানবন্দি দিলেন সীমান্ত, আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-যশোর রুটে ফের ফ্লাইট চালু করছে ইউএস-বাংলা

আদালতে জবানবন্দি দিলেন সীমান্ত, আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল

জেলা প্রতিনিধি
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬   ০ বার পঠিত
আদালতে জবানবন্দি দিলেন সীমান্ত, আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল

ছবি: -সংগৃহীত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত চন্দ্র দাস নামে এক যুবক। তিনি এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই প্রধান আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মিল পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিরা সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন—জবানবন্দিতে সেই তথ্যও উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তিনি নগরের মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। একটি মার্কেটের কাপড়ের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত তার বাবার সঙ্গে আদালতে এসে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার বক্তব্য রেকর্ড করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত আদালতে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা আসামিদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মিলে গেছে। আসামিরা সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবনের কথা জানিয়েছিল। সীমান্তও তার জবানবন্দিতে একই তথ্য দিয়েছেন।

এর আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই আসামি সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

এদিকে আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হবে কি না জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য সোমবার সকালে ডকেট পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বুধবার তা পাঠানো হবে।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে খোঁজা হবে। হত্যাকাণ্ড ঘিরে যেসব প্রশ্ন রয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সেগুলোর উত্তর বের করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে রোববার নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। একই দিন রাতে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রথমে মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জির ওপর দেওয়া হয়েছিল। সোমবার মামলাটি মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। পরে গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। ওই বাড়ির দোতলায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। অবসরের পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাও দিতেন।

গত শনিবার রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাতে নগরের দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031